Ticker

6/recent/ticker-posts

গোলেরহাট ফাজিল মাদ্রাসায় নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ, অনিয়ম ও শিক্ষার মানে ধসের অভিযোগ ​

 



গোলেরহাট ফাজিল মাদ্রাসায় নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ, অনিয়ম ও শিক্ষার মানে ধসের অভিযোগ

কুড়িগ্রামের দুধকুমর পাড়ের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গোলেরহাট ফাজিল (বিএ) মাদ্রাসায় জ্যেষ্ঠতা ও সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে বহাল থাকা, সম্পত্তি আত্মসাৎ এবং ফলাফলে চরম বিপর্যয়ের তীব্র অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ক্ষুণ্ন হওয়া এবং শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

​১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত ৬২ বিঘা জমি, ১২ বিঘার দুটি পুকুর, বহুতল ভবন, টিনশেড ও শহীদ মিনারসমৃদ্ধ এই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৪০ জন শিক্ষক-কর্মচারী এবং প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে বিশাল এই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

​অভিযোগে জানা যায়, মাদ্রাসায় আরবি বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্যেষ্ঠ শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও ২০২৩ সালের সংশোধন নীতিমালার শর্ত উপেক্ষা করে সুন্নাতি লেবাসবিহীন শিক্ষক মোঃ মোকছেদ আলীকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ৬ মাসের মধ্যে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের তাগিদ থাকলেও নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে তিনি ক্ষমতার বলে উক্ত পদে বহাল রয়েছেন।

​তদুপরি, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারির সর্বশেষ এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো অনুযায়ী—অধ্যক্ষ পদ শূন্য হলে জ্যেষ্ঠতম আরবি শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা বাধ্যবাধকতামূলক। কিন্তু নতুন এই নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে মোকছেদ আলী দায়িত্ব আঁকড়ে রেখেছেন, যা সরকারি নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।

​স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের দাবি, মোকছেদ আলী গায়ের জোরে পদে বহাল থেকে মাদ্রাসার জমি, পুকুর লিজসহ বিভিন্ন সম্পদ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছেন। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার ঘটনায় তার অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠেছে বলে তারা জানান।

​প্রশাসনিক এই বিশৃঙ্খলার প্রভাব পড়েছে শিক্ষার পরিবেশেও। প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক ফলাফল এসেছে সাম্প্রতিক পরীক্ষায়—৪৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এমন ফলাফল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং অভিভাবক মহলকে চরম দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

​এমন পরিস্থিতিতে মাদ্রাসাটিতে নতুন কিছু কর্মচারী নিয়োগের গুঞ্জন ছড়ালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এলাকাবাসী ও শিক্ষকদের দাবি, বর্তমান অনিয়ম ও নিয়োগ প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নীতিমালা অনুসরণ করে জ্যেষ্ঠতম আরবি শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব দিতে হবে।

​উক্ত বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


Post a Comment

0 Comments