ভূরুঙ্গামারীতে স্কাউট কর্মী খোরশেদ আলমকে ঘিরে ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ: নেপথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে স্থানীয় স্কাউট কর্মী মো. খোরশেদ আলমকে ঘিরে চলা বিতর্ক এক চরম ও চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ৩০ সেকেন্ডের সংবেদনশীল ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার দাবি এবং এটিকে কেন্দ্র করে সমকামিতা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত স্কাউট কর্মীর দাবি, এটি তার বিরুদ্ধে পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ব্ল্যাকমেইল ও ডিপফেক অপপ্রচার। এ ঘটনায় তিনি আগেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে আইনি সুরক্ষা চেয়েছেন।
গত কয়েক দিন ধরে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় স্কাউট কর্মী খোরশেদ আলমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। প্রথমে মেসেঞ্জারে বিভিন্ন তরুণ ও কিশোরদের বাসায় ডেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর মৌখিক গুঞ্জন শোনা গেলেও, সম্প্রতি বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়। বিভিন্ন অনলাইনে ৩০ সেকেন্ডের একটি অশ্লীল ভিডিও ক্লিপের কথা বলে কুৎসা রটানোর চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে।
ভিডিও ও সমকামিতার অভিযোগের নেপথ্য
অভিযোগকারীদের একাংশের দাবি, ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওটিতে সমকামিতা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত এই ভিডিওটির কোনো ফরেনসিক সত্যতা, সুনির্দিষ্ট উৎস কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
সাইবার অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান যুগে এআই বা ভিডিও এডিটিংয়ের মাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে ডিপফেক ভিডিও তৈরি করে বা পুরোনো কোনো ঘটনার সাথে মিলিয়ে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা অত্যন্ত সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে যাচাই না করে এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্য ছড়ানো আইনগতভাবে অপরাধ।
পূর্বের জিডি ও খোরশেদ আলমের সাফাই
এদিকে এই ধরনের মানহানিকর অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খোদ অভিযুক্ত স্কাউট কর্মী মো. খোরশেদ আলম। তার দাবি, একটি কুচক্রী মহল তার সম্মানহানি এবং চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে এই অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। এ বিষয়ে তিনি গত ১৫/০৮/২০২৩ তারিখে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করেন।
থানায় দায়েরকৃত জিডির বিবরণী:
জিডি নম্বর: ৬৭৫
ট্র্যাকিং নম্বর: IW7VQK
তারিখ: ১৫/০৮/২০২৩
মূল অভিযোগ: ভুয়া আইডি ('Khorshed Scout') খুলে ছবি অপব্যবহার, অশ্লীল বার্তা ও চাঁদা দাবি।
তদন্ত কর্মকর্তা: এসআই মো. মনিবুর রহমান
"আমার মানসম্মান ক্ষুণ্ন করতে এবং সামাজিক অবস্থান নষ্ট করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে ভুয়া ভিডিও ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। আমি যেকোনো নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর ফরেনসিক টেস্টের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত আছি।" — মো. খোরশেদ আলম, স্কাউট কর্মী।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় একপাক্ষিক সিদ্ধান্তে কারো চরিত্রহনন করা অনুচিত। একদিকে ভিডিও ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে সাইবার বুলিং ও ব্ল্যাকমেইলের সুনির্দিষ্ট জিডি রয়েছে। জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে এবং প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে পুলিশ প্রশাসন ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের মাধ্যমে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই এবং এর পেছনে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।

0 Comments